উপাসনালয়ের টাকা আত্মসাৎ মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা জেলে, বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, দৈনিক ভোরের কাগজ

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ২২টি মসজিদ-মন্দিরের নামে বিশেষ বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ মামলায় তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি হাজি আলম কবিরকে জেলহাজতে পাঠায় আদালত। গত মঙ্গলবার বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হাসানুজ্জামান তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জানা গেছে, ১৫-১৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় তালতলী উপজেলার মসজিদ-মন্দিরের নামে ৫৬টি প্রকল্প দিয়ে ৪৫ লাখ ৫১ হাজার ৮৬০ টাকা বরাদ্দ দেয়। উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে নামে-বেনামে ৫৬টি মসজিদ ও মন্দিরের প্রকল্প দেয় তালতলী উপজেলার আওয়ামী লীগ সহসভাপতি ও ঢাকার জেকে ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লি. পরিচালক হাজি মো. আলম কবিরসহ ১২ জনের একটি প্রতারক চক্র। ওই প্রকল্পের মধ্যে ২২টি মসজিদ ও মন্দিরের ভুয়া নাম দিয়ে বিশেষ বরাদ্দের ১২ লাখ ৮৩ হাজার ৮৫৭ টাকা আত্মসাৎ করেন আওয়ামী লীগ নেতা আলম কবির। এ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে গত ৪ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালী দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক আরিফ খাঁন হোসেন বাদী তালতলী থানায় মামলা করেন। গত সোমবার দুদকের একটি টিম আলম কবিরকে পটুয়াখালীর একটি খেলার মাঠ সংলগ্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করেন। মঙ্গলবার আসামি আলম কবিরকে দুদক কর্তৃপক্ষ বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে প্রেরণ করেন। আদালতের বিচারক মো. হাসানুজ্জামান তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তালতলী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানান, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। আমার আগেরকার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিষয়টি ভালো জানেন। তিনি আরো বলেন, এ প্রকল্পগুলোর কাগজপত্র দুদক কর্তৃপক্ষ নিয়ে গেছে।
পটুয়াখালী দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, আসামি হাজি আলম কবিরসহ ১২ জনের একটি প্রতারক চক্র ১৫-১৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে মসজিদ ও মন্দিরের নামে ৫৬টি প্রকল্প দেখিয়ে ৪৫ লাখ ৫১ হাজার ৮৬০ টাকা বরাদ্দ করেন। ওই প্রকল্পের মধ্যে ২২টি মসজিদ ও মন্দিরের ভুয়া নাম দিয়ে ১২ লাখ ৮৩ হাজার ৮৫৭ টাকা আত্মসাৎ করেন। এ ঘটনায় তার নামে তালতলী থানায় মামলা হয়। ওই মামলায় সোমবার রাতে তাকে পটুয়াখালী শহরের একটি খেলার মাঠ সংলগ্ন স্থানে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার তাকে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে প্রেরণ করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী মো. কামরুল আহসান মহারাজ বলেন, আদালতের বিচারক মো. হাসানুজ্জামান আসামি হাজি আলম কবিরকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।