আমতলী ও তালতলী উপজেলা
বাংলাদেশের দক্ষিনের জেলা বরগুনা

বরিশালের প্রাচীনতম বন্দর ‍‍“আমতলী”
জেলার বৃহত উপজেলা আমতলী
(বর্তমান আমতলী ও তালতলী)
“খাল-নদী ও সাগরের উপজেলা
সংগ্রামী সাহসী মানুষের ইতিকথা”


চন্দ্রদ্বীপঃ দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় মুসলিম আধিপত্য বিস্তার কালে রাজা দনুজমর্দন কর্তৃক ‘‘চন্দ্রদ্বীপ’’ নামে একটি সাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। দতুর্দশ শতাব্দী পর্যন্ত এ অঞ্চল চন্দ্রদ্বীপ নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে। অতি প্রাচীন বৈদেশিক মানচিত্রে চন্দ্রদ্বীপ নাম বড় অক্ষরে অংকিত দেখা যায়। ১৭৯৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এ জেলা বাকলা-চন্দ্রদ্বীপ নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে ১৭৯৭ সালে ঢাকা জেলার দক্ষিণাঞ্চল নিয়ে বাকেরগঞ্জ, ১৮০১ বাকেরগঞ্জ জেলাকে বরিশালে (গিরদে বন্দর) স্থানান্তরিত করা হয়। ১৮১২ সালে এ জেলায় ১৫ টি থানা ছিল। পাকিস্তান আমলে বরিশাল জেলায় মোট ০৬ টি মহকুমা ছিল । ১৯৬৯ সালে পটুয়াখালী ও বরগুনা মহাকুমার সমনয়ে পটুয়াখালী জেলা গঠন করা হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনিক পূনর্বিন্যাসের ফলে ১৯৮৪ সালে বরগুনা একটি নতুন জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। বর্তমানে বরিশাল বিভাগের জেলাগুলো হলো- বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, বরগুনা ও ঝালকাঠী।

১৮৫৯ সালে বর্তমানে আমতলী, বরগুনা ও কলাপাড়াকে নিয়ে গুলিশাখালী থানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। সদর দপ্তর স্থাপন করা হয় পায়রা নদীর পাড়ে গুলিশাখালী গ্রামে। ১৮৭১ সালে পটুয়াখালীকে মহকুমায় রূপান্তর করা হলে গুলিশাখালীকে তার অন্তর্ভূক্ত করা হয়। ১৯০১ সালে নদী ভাঙ্গনের কারণে থানা সদর বর্তমান আমতলী এ, কে, স্কুল সংলগ্ন দক্ষিণ পাশে স্থানান্তর করা হয়। ১৯৪৪ সালে গুলিশাখালী আমতলী থানায় রূপান্তরিত হয়। ১৯৮২ সালে আমতলী থানা উপজেলায় রূপলাভ করে। ৬ মে ২০১০ সালে একনেক এর বৈঠকে আমতলী উপজেলাকে বিভক্ত করে আরেকটি নতুন উপজেলা করা হয় যার নাম তালতলী উপজেলা।

বর্তমানে বরগুনার জেলা ৬টি উপজেলা। বরগুনা সদর, আমতলী, বেতাগী, বামনা, পাথরঘাটা ও তালতলী।

আমতলী উপজেলা

আমতলী উপজেলায় ১টি থানা, ১টি পৌরসভা, ৭টি ইউনিয়ন, আয়তন ৭২০.৭৬ বর্গ কিলোমিটার বা ২৭৮.২৯ বর্গ মাইল।।

আমতলী উপজেলা : নামকরন লোকশ্রুতি আছে যে, সুদূর অতীতকালে পায়রা নদীর তীরে বহু আম গাছ ছিল। মাঝিরা তাদের নৌকা বাঁধত সেই আম গাছের সাথে। নৌকা বাঁধার স্থানটি কালে কালে হয়ে যায় আমতলা থেকে আমতলী। অন্যদিকে, পায়রা নদীর একটি প্রবাহ আমতলী বন্দরের পূর্ব দিক দিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে আমতলী নদী প্রবাহিত হয়েছিল। নৌযান চলাচল মুখরিত আমতলী নদীর তীরে পাঠান আমলে গড়ে ওঠেছিল জনবসতি ও বাণিজ্যিকেন্দ্র। মোগল যুগে পায়রা নদীতে মগ, পর্তুগীজদের লুণ্ঠন ও অত্যাচার বেড়ে গেলে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ আমতলী নদীই ছিল একমাত্র ভরসা। এ নদীর নাম অনুসারে এলাকার নাম হতে পারে আমতলী। আবার, অতীতে আমতলী যখন অরণ্য আচ্ছাদিত হয়ে দুর্গম এলাকা হিসেবে ছিল তখন আরকান থেকে আগত জনৈক আমপাটি নামক মগ দলপতি ইংরেজি সরকার থেকে ইজরা নিয়ে আমতলী প্রথম আবাদ শুরু করে ছিলেন। সম্ভবতঃ আমপারিট মগের নাম অনুসারেও এলকায় নাম আমতলী হতে পারে।

অবস্থানঃ ভৌগোলিকভাবে আমতলী প্রায় ২১০৫১ ও ২২০১৭ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০০০২ ও ৯০০২৩ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। এ উপজেলার উত্তরে পটুয়াখালী সদর, দক্ষিণ পশ্চিমে তালতলী উপজেলা ও বঙ্গোপসাগর, পূর্বে পটুয়াখালীর গলাচিপা ও কলাপাড়া উপজেলা এবং পশ্চিমে বুড়ীশ্বর বা পায়রা নদী। এ নদী বরগুনা জেলা সদর থেকে আমতলীকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে।

জলবায়ুঃ আমতলীতে ষড়ঋতুর মধ্যে প্রধানত তিনটি মৌসুম জোরালোভাবে পরিলক্ষিত হয়। গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীত। মার্চ ও এপ্রিল মাস গ্রীষ্মকাল। এ সময় বাতাস খুবই উত্তপ্ত হয় এবং জলীয় বাসেপর পরিমাণ কম থাকে। চরম উষ্ণতায় (এপ্রিল মাসে) তাপমাত্রা ৪১.১০ সেঃ পর্যন্ত হয়। বর্ষা মৌসুম সাধারণত মে হতে অক্টোবর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। শতকরা ৯০% বর্ষণ এ সময়ে হয়। শীতকাল আরম্ভ হয় November আর শেষ হয় February মাসে। এ মৌসুম অত্যন্ত শুষ্ক ও শীতল। বৃষ্টিপাতের মাসিক হার ৭৫ মি.লি. কম বলে এ সময়কে শুষ্ক মাস বলা চলে। চরম শীতে তাপমাত্রা ৫.৬০ সেঃ এ নেমে আসে।

ভূ-প্রকৃতিঃ আমতলী উপজেলার ভূ-প্রকৃতি প্রায় সমতল কটাল পললভূমি দিয়ে গঠিত এবং এ এলাকা বর্ষাকালে সল্পগভীরভাবে প্লাবিত হয়। এখানে নদীর পার্শ্ববর্তী সংকীর্ণ ডাঙ্গ জমি অপেক্ষাকৃত উঁচু ও দোঁ-আশ জাতীয় পলি দিয়ে গঠিত এবং পার্শ্ববর্তী প্রায় সমতল বিল জমি অপেক্ষাকৃত নীচু ও এটেল পলি দিয়ে গঠিত। এ পলল ভূমির সমূদয় পলি গঙ্গা নদীর উতস হতে আগত। আমতলীর লোকচরিত্রঃ আমতলী উপজেলায় আয়তনের অনুপাতে জনসংখ্যার পরিমাণ কম। ফলে এক একটি বাড়ী বেশ খোলামেলা জায়গা নিয়ে তৈরী হয়। শহর ও গঞ্জের চিত্র ভিন্ন হলেও সাধারণত গ্রামে এ চিত্রই চোখে পড়ে। অধিকাংশ পরিবার অনেক ভুমি নিয়ে বসবাস করেন। ঘন গাছ-পালা আচ্ছাদিত ও পরিখাবেষ্টিত এসব বাড়ী সাধারণত বিচ্ছ্‌িন অবস্থায় থাকে। প্রতিটি পরিবারের মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধ ও সাতনত্র্যবোধ পরিলক্ষিত হয়। কিছু ব্যতিক্রম চাড়া বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে এদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থান প্রবণতার অভাব দেখা যায়। আমতলীর লোকচরিত্র অনেক ভদ্র, ও পরিশীলিত। তাঁরা অতিথিপরায়ণ, নম্র এবং ইতিবাচক মানসিকতার অধিকারী।
ভূ-প্রকৃতিঃ আমতলী থানার ভূ-প্রকৃতি প্রায় সমতল কটাল পললভূমি দিয়ে গঠিত এবং এ এলাকা বর্ষাকালে সল্পগভীরভাবে প্লাবিত হয়। এখানে নদীর পার্শ্ববর্তী সংকীর্ণ ডাঙ্গ জমি অপেক্ষাকৃত উঁচু ও দোঁ-আশ জাতীয় পলি দিয়ে গঠিত এবং পার্শ্ববর্তী প্রায় সমতল বিল জমি অপেক্ষাকৃত নীচু ও এটেল পলি দিয়ে গঠিত। এ পলল ভূমির সমূদয় পলি গঙ্গা নদীর উৎস হতে আগত।
আমতলীর নদ-নদীঃ ১) পায়রা/বুড়ীশ্বর নদী ২) গুলিশাখালী নদী ৩) কুকুয়া নদী ৫) চাওড়া নদী ৬) আমতলী নদী ৭) টিয়াখালী নদী ৮) আড়াপাঙ্গাশিয়া নদী ৯) কচুপাত্রা দোন ।

কৃষিঃ এখানকার কৃষি ব্যবস্থা মান্ধাতা আমলের। বর্তমানে কিছুক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু হয়েছে। আমতলী উপজেলায় মোট কৃষি পরিবারঃ ৪৭,৪০৩ আছে নীট ফসলী জমিঃ ৩৮,৫০০ হেক্টর। খাদ্যশস্য উতপাদনঃ৬৭২৮৭ মেট্রিক টন। প্রধান ফসলঃ ধান, খৈসারী, মুশুরী, মুগ, আলু, মরিচ, কুমড়া, তরমুজ, ইত্যাদি।
শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানঃ ডিগ্রী বলেজঃ ৩টি । উচ্চ মাধ্যমিক কলেজঃ ৪টি। কারিগরী কলেজঃ ১টি । মাধ্যমিক বিদ্যালয়ঃ ৩৪টি । জুনিয়ার বিদ্যালয়ঃ ৩২টি । সিনিয়র মাদ্রাসাঃ ৪টি। আলিম মাদ্রাসাঃ ৬টি । দাখিল মাদ্রাসাঃ৩০টি । সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ ১০১টি । বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ ৯৯টি। কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ ১৬টি । এবদেতায়ী মাদ্রাসাঃ ৪৩টি ।
ধর্ম বিশ্বাসঃ আমতলীতে মুসলিম, হিন্দু এবং বৌদ্ধ সমপ্রদায়ের লোকের বসবাস। মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। মুসলমান সমপ্রদায় ধর্মভীরু, নিরাকারবাদী ও পরলোকে আস্থাশীল। হিন্দুগণ সাকারবাদী এবং কোন না কোন দেব দেবীর উপাসক। কুকুয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর ও খাকদোন গ্রামে আহম্মদী মুসলিম জামাত আছে, তারা বিত্তশালী, শান্তিপ্রিয় ও নিরীহ বলে পরিচিত।

তালতলী উপজেলা

প্রতিষ্ঠার তারিখ ২৫ এপ্রিল, ২০১২। ৮৮,০০৪ জন, পুরুষ: ৪৩,৭০৭ জন, মহিলা ৪৪,২৯৭ জন (২০১১ সনের আদমশুমারী অনুযায়ী)
তালতলী উপজেলায় ১টি থানা ও ৭টি ইউনিয়ন, আয়তন ২৫৮.৯৪ বর্গ কিলোমিটার বা ৯৯.৯৮ বর্গ মাইল।।

অবস্থানঃ ভৌগোলিকভাবে তালতলী প্রায় ভৌগোলিকভাবে তালতলী প্রায় ২১০৫১ ও ২২০১৭ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০০০২ ও ৯০০২৩ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। এ উপজেলার উত্তরে বরগুনা সদর, দক্ষিনে  বঙ্গোপসাগর, পূর্বে পটুয়াখালীর  কলাপাড়া উপজেলা এবং পশ্চিমে বুড়ীশ্বর বা পায়রা নদী। এ নদী বরগুনা জেলা সদর থেকে তালতলীকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে।
জলবায়ুঃ তালতলীতে ষড়ঋতুর মধ্যে প্রধানত তিনটি মৌসুম জোরালোভাবে পরিলক্ষিত হয়। গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীত। মার্চ ও এপ্রিল মাস গ্রীষ্মকাল। এ সময় বাতাস খুবই উত্তপ্ত হয় এবং জলীয় বাসেপর পরিমাণ কম থাকে। চরম উষ্ণতায় (এপ্রিল মাসে) তাপমাত্রা ৪১.১০ সেঃ পর্যন্ত হয়। বর্ষা মৌসুম সাধারণত মে হতে অক্টোবর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। শতকরা ৯০% বর্ষণ এ সময়ে হয়। শীতকাল আরম্ভ হয় November আর শেষ হয় February মাসে। এ মৌসুম অত্যন্ত শুষ্ক ও শীতল। বৃষ্টিপাতের মাসিক হার ৭৫ মি.লি. কম বলে এ সময়কে শুষ্ক মাস বলা চলে। চরম শীতে তাপমাত্রা ৫.৬০ সেঃ এ নেমে আসে।
ভূ-প্রকৃতিঃ তালতলী উপজেলার ভূ-প্রকৃতি প্রায় সমতল কটাল পললভূমি দিয়ে গঠিত এবং এ এলাকা বর্ষাকালে সল্পগভীরভাবে প্লাবিত হয়। এখানে নদীর পার্শ্ববর্তী সংকীর্ণ ডাঙ্গ জমি অপেক্ষাকৃত উঁচু ও দোঁ-আশ জাতীয় পলি দিয়ে গঠিত এবং পার্শ্ববর্তী প্রায় সমতল বিল জমি অপেক্ষাকৃত নীচু ও এটেল পলি দিয়ে গঠিত। এ পলল ভূমির সমূদয় পলি গঙ্গা নদীর উতস হতে আগত।
তালতলীর লোকচরিত্রঃ তালতলী উপজেলায় আয়তনের অনুপাতে জনসংখ্যার পরিমাণ কম। ফলে এক একটি বাড়ী বেশ খোলামেলা জায়গা নিয়ে তৈরী হয়। শহর ও গঞ্জের চিত্র ভিন্ন হলেও সাধারণত গ্রামে এ চিত্রই চোখে পড়ে। অধিকাংশ পরিবার অনেক ভুমি নিয়ে বসবাস করেন। ঘন গাছ-পালা আচ্ছাদিত ও পরিখাবেষ্টিত এসব বাড়ী সাধারণত বিচ্ছ্‌িন অবস্থায় থাকে। প্রতিটি পরিবারের মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধ ও সাতনত্র্যবোধ পরিলক্ষিত হয়। কিছু ব্যতিক্রম চাড়া বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে এদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থান প্রবণতার অভাব দেখা যায়। লোকচরিত্র অনেক ভদ্র ও পরিশীলিত। তাঁরা অতিথিপরায়ণ, নম্র এবং ইতিবাচক মানসিকতার অধিকারী।
ভূ-প্রকৃতিঃ তালতলী থানার ভূ-প্রকৃতি প্রায় সমতল কটাল পললভূমি দিয়ে গঠিত এবং এ এলাকা বর্ষাকালে সল্পগভীরভাবে প্লাবিত হয়। এখানে নদীর পার্শ্ববর্তী সংকীর্ণ ডাঙ্গ জমি অপেক্ষাকৃত উঁচু ও দোঁ-আশ জাতীয় পলি দিয়ে গঠিত এবং পার্শ্ববর্তী প্রায় সমতল বিল জমি অপেক্ষাকৃত নীচু ও এটেল পলি দিয়ে গঠিত। এ পলল ভূমির সমূদয় পলি গঙ্গা নদীর উৎস হতে আগত। আমতলীর নদ-নদীঃ ১) পায়রা/বুড়ীশ্বর নদী ২) আন্ধারমানিক নদী ৩) পচাঁকোড়ালিয়া নদী।
কৃষিঃ এখানকার কৃষি ব্যবস্থা মান্ধাতা আমলের। বর্তমানে কিছুক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু হয়েছে। তালতলী উপজেলায় মোট কৃষি পরিবারঃ ৪৭,৪০৩ আছে নীট ফসলী জমিঃ ৩৮,৫০০ হেক্টর। খাদ্যশস্য উতপাদনঃ৬৭২৮৭ মেট্রিক টন। প্রধান ফসলঃ ধান, খৈসারী, মুশুরী, মুগ, আলু, মরিচ, কুমড়া, তরমুজ, ইত্যাদি।
শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানঃ ডিগ্রী কলেজঃ ২টি । মাধ্যমিক বিদ্যালয়ঃ ৯টি । জুনিয়ার বিদ্যালয়ঃ ৩২টি । মাদ্রাসাঃ ১২টি । সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ ৭০টি । ধর্ম বিশ্বাসঃ তালতলীতে মুসলিম, হিন্দু এবং বৌদ্ধ সমপ্রদায়ের লোকের বসবাস। মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। তালতলীর ১৩টি পাড়ায় ২৫৩ টি বৌদ্ধ পরিবারে মাত্র ১১৮৫ জন লোক বাস করে। এখানকার বৌদ্ধরা রাখাইন উপজাতিভূক্ত। মুসলমান সমপ্রদায় ধর্মভীরু, নিরাকারবাদী ও পরলোকে আস্থাশীল। হিন্দুগণ সাকারবাদী এবং কোন না কোন দেব দেবীর উপাসক। তালতলীর রাখাইন সমপ্রদায় বৌদ্ধ তারা অহিংসাকে পরম ধর্ম বলে মনে করে। রাখাইনরা সরল, সত্যনিষ্ঠ। রাখাইনেরা অরণ্য আবাদে অত্যন্ত দক্ষ। রাখাইন সমপ্রদায়ের লোকজন প্রধানতঃ বড়বগী ইউনিয়নে এবং কয়েকঘর পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নে বসবাস করে। উপজেলার অন্যত্র তাদের বসবাস নাই।
ভাষা ও সংষ্কৃতিঃ উপজেলার ভূ-প্রকৃতি ও ভৌগলিক অবস্থান এই উপজেলার মানুষের ভাষা ও সংস্কৃতি গঠনে ভূমিকা রেখেছে। ঋতুভিত্তিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নৌকা বাইচ, বৈশাখী মেলা, পৌষ সংক্রান্তি, মহরমের মেলা, ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে বিভন্নভাবে সংস্কৃতির প্রসার ঘটে। এখানে বাংলা ভাষার পাশাপাশি রাখাইন ভাষার প্রচলন আছে। প্রভাবরণ পূজা ও বৌদ্ধ পূর্ণিমা এদের প্রধান ধর্মীয় অনুষ্টান। এখানে রাখাইন পল্লী আছে, যারা একটি স্বতত্র সংস্কৃতির বাহক। এদের আচার, আচারন এমন কি জীবন যাপন একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

আমতলী ডট কম’র তথ্যে যে কোন ভুলত্রুটি আপনার কাছে পরিলক্ষিত হলে আমাদের নিকট জানালে এর সংস্করণ ও সংযোজন করা হবে।

আমতলী ও তালতলী উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ- (পরলোকগত)

 

নামপরিচয়ছবিমৃত্যু তাং 
খোরশেদ তাং আমতলীপ্রেসিডেন্ট, সমাজসেবক1912
আর্শেদ আলী তাংপ্রেসিডিন্ট, সমাজসেবক 1950
জেন্নাত আলী তাং, আমতলীসমাজ সেবক, শিক্ষানুরাগী1956
নাসির উদ্দিন তাং, হলদিয়ামুক্তিযোদ্ধা, সরকারী চাকুরী1971
আঃ বারেক খান, চাওড়া ক্যাপ্টেন, মুক্তিযোদ্ধা, সমাজসেবক1971
আদেল উদ্দিন শিকদার, চাওড়াচেয়ারম্যান, শিক্ষানুরাগী19/07/1971
বজলুর করিম খানশিক্ষক, সমাজ সেবক 10/07/1974
অঞ্জন কুমার কর্মকার, আমতলীরাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী03/11/1975
আসমত আলী খান তাং, চাওড়াপ্রেসিডেন্ট, শিক্ষানুরাগী1984
আসমত আলী আকন, আমতলীরাজনীতিবিদ, চেয়ারম্যান12/12/1985
ইসরাইল হোসেন নশা তাং, কুকুয়ারাজনীতিবিদ, চেয়ারম্যান1987
নিজাম উদ্দিন তাং, কুকুয়াএমপি, রাজনীতিবিদ06/12/1990
আঃ লতিফ বিশ্বাস, হলদিয়ারাজনীতিবিদ, চেয়ারম্যান19/03/1994
আমিন উদ্দিন শিকদার, চাওড়াসমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী01/12/1995
আঃ আজিজ মাস্টার, নয়াভাংগলীশিক্ষক, শিক্ষানুরাগী28/06/1998
আফাজ উদ্দিন তাং, আড়পাংগাশিয়াক্রীড়াবিদ, সমাজ সেবক14/02/2001
মজিবর রহমান তাং, কুকুয়াএমপি, রাজনীতিবিদ01/02/2003
ফজলুর রহমান খান তাং, চাওড়ারাজনীতিবিদ, চেয়ারম্যান 07/08/2003
দলিল উদ্দিন মৃধা, আমতলীশিক্ষানুরাগী, রাজনীতিবিদ23/07/2004
মাহবুবুল আলম ঝন্টু তাং, হলদিয়ারাজনীতিবিদ, চেয়ারম্যান20/10/2004
আঃ আজিজ তাং, চাওড়ারাজনীতিবিদ, সদস্য- জেলা বোর্ড06/07/2005
বাহাদুর খান,  আমতলীসাংবাদিক, রাজনীতিবিদ05/05/2006
বেলায়েত হোসেন খান, আঠারগাছিয়ারাজনীতিবিদ, চেয়ারম্যান25/09/2006
মোকলেস উদ্দিন তাং, আড়পাংগাশিয়াচেয়ারম্যান, সমাজ সেবক12/01/2007
আফাজ উদ্দিন বিশ্বাস, আড়পাংগাশিয়াবীরমুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ, চেয়ারম্যান24/08/2008
ফারুক মল্লিক, হলদিয়াচেয়ারম্যান, সমাজ সেবক 26/09/2008
শামসুল আলম তাং, গুলিশাখালীরাজনীতিবিদ, অধ্যক্ষ08/11/2008
আমির হোসেন গাজী, আমতলীরাজনীতিবিদ, সমাজসেবক, শিক্ষক20/05/2009
মুঃ আঃ সোবহান, আমতলীঅধ্যক্ষ, সমাজসেবক21/07/2009
অজয় কুমার কর্মকার, আমতলীমৃক্তিযোদ্ধা, সংগীত সাধক20/05/2011
কালিপদ মজুমদার, আমতলীসমাজ সেবক, শিক্ষানুরাগী19/12/2011
ছিদ্দিকুর রহমান, গুলিশাখালীচেয়ারম্যান, শিক্ষক31/11/2012?
আঃ মন্নান মৃধা, গুলিশাখালীরাজনীতিবিদ, চেয়ারম্যান02/09/2014
দেওয়ান মজিবর রহমান, আড়পাংগাশিয়ামুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ, শিক্ষক11/09/2014
আঃ ছত্তার মৃধা, আমতলীরাজনীতিবিদ, ১ম মেয়র28/03/2015
আলতাফ হোসেন মুসুল্লী, আমতলীচেয়ারম্যান, রাজনীতিবিদ06/01/2017
সাইদুর রহমান তালুকদারচেয়ারম্যান, রাজনীতিবিদ05/04/2017